নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট

সিলেটে নারী জাগরণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধাদান, ককটেল বিস্ফোরণ ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২২ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুমন হুদা সম্প্রতি এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৮ আসামিকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, দুই আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অপর দুই আসামিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দেন, অর্থদণ্ড অনাদায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আদালতের রায় অনুযায়ী তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আলী আহমদ, মাহমুদুর রব চৌধুরী, আবুল কাশেম, আলা মমন খান, মো. আব্দুর আলী, শেখ মজন উদ্দিন, মো. সজিব, নাসিম হোসাইন, আবুল কাদের চৌধুরী শামীম, আতিক মিয়া, আলতাফ হোসেন সুমন, কফিলন বারী আহসান, কামাল আহমদ, আজিজুল আমিয়া তাবরেক, সেলিম, সাইফুর রহমান, রনি ও আব্বাসর।

এছাড়া মোছা. সিমা বেগম ও গোলাম আহমদ সেলিম চৌধুরীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

অন্যদিকে আশরাফ ও সাদুকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩/৬ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং ভাঙচুরের ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার বিচার চলাকালে সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জব্দ তালিকা, আলামত এবং অন্যান্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় প্রদান করেন।

রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, তারা চাইলে উচ্চ আদালতে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *